ইন্দোনেশিয়া কেনো বাংলাদেশীদের ভিসা স্থগিত করলো
বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক এক সময় এমন ছিলোনা। বাংলাদেশ এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক একে অন্যের দেশে বেড়াতে পারতো কোনো ধরনের ভিসা ছাড়ায়। ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশী নাগরিকগন ইন্দোনেশিয়া তে ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা পেয়ে এসেছে।
সম্প্রতি প্রায় দেড় মাস যাবত ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশ্বে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা দিলেও বাংলাদেশ কে রাখা হয়েছে ভিসা অন এরাইভাল লিস্টের বাহিরে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য চালু রাখা হয়েছিলো ২ মাস মেয়াদি টুরিস্ট ভিসা। কিন্ত সম্প্রতি সেই টুরিস্ট ভিসা ও বন্ধ করে রেখেছে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন। যেখানে শ্রিলংকার মতো দেশ ও ভিসা হোয়াইট লিস্টে আছে সেখানে বাংলাদেশ আছে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন এর ব্লাক লিস্টের তালিকাভুক্ত দেশ হিসাবে।
বাংলাদেশ কে কেনো ভিসা দিচ্ছেনা
একটি ইমিগ্রেশন সুত্রের অলিখিত মন্তব্য থেকে জানা যায় যে, রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশী নাগরিক ইন্দোনেশিয়া কে মালেয়শিয়াতে যাওয়ার অবৈধ রুট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেক এজেন্ট ইন্দোনেশিয়াকে মালেয়শিয়াতে মানব পাচারের অন্যতম পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি বেশ কিছু বাংলাদেশী নাগরিক ইন্দোনেশিয়া থেকে মালেয়শিয়াতে অবৈধভাবে প্রবেশ করার সময় ইন্দোনেশিয়ান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশী নাগরিকরা ইন্দোনেশিয়ার ইনভেস্টর ভিসা নিয়ে সেটার অপব্যবহার করেছে। এরকম ৫ জন বাংলাদেশী যারা ইন্দোনেশিয়ার ইনভেস্টর ভিসা নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা না করে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে ইন্দোনেশিয়াতে বসবাস করছিলো। ওই ৫ জন ব্যাক্তিকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশীরা ইন্দোনেশিয়ার ফ্যামিলি ভিসা, টুরিস্ট ভিসা জাল করা সহ ইন্দোনেশিয়াতে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
যার ফলে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। যার ফলে যারা প্রকৃত টুরিস্ট তারা ও বিপদে পড়েছে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের কোনো ধরনের টুরিস্ট ভিসা রিলিজ দিচ্ছেনা ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে।
তাছাড়া বাংলাদেশ এম্বাসি ও এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের পররাষ্ট্রনীতি বা আলোচনার কথা ও শোনা যায়নি।
বাংলাদেশী নাগরিকদের অপকর্ম আর দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারনে ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।





