আবারো চালু হলো ইন্দোনেশিয়ার ১ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা
করোনার শুরু থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাসের পর থেকে ইন্দোনেশিয়া তাদের ভিসা সিস্টেম বহুবার পাল্টেছে। ২০২০ সালের আগে বাংলাদেশী নাগরিকগণ বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়াতে ভ্রমণ করতে পারতো ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা নিয়ে।
কিন্ত হলো ২০২০ সালের পরে সেই চিত্র পালটে যায়। করোনা পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়া সাময়িক সময়ের জন্য B211A ( ব্যবসায়ী ভিজিট ভিসা) চালু করে। তারপর দিন যেতে যেতে কয়েক মাস পরে ইন্দোনেশিয়া B211A ( দুই মাস মেয়াদি টুরিস্ট ভিসা) চালু করে। আস্তেধীরে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন তাদের দেশের টুরিজম কে প্রাধান্য দিতে শুরু করে। এবং পর্যায়ক্রমে উন্নত দেশগুলোর জন্য ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা চালু করে দেয়।
বাংলাদেশ কে লিস্টের বাহিরে রেখে এখনো পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের ৮০ টি ( প্রায়) দেশকে ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সেই লিস্টের বাহিরে থাকায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট হোল্ডারদের ভিসা নিয়েই ইন্দোনেশিয়া তে আসতে হচ্ছে।
কিছুদিন আগেও ইন্দোনেশিয়ার ২ মাস মেয়াদি টুরিস্ট ভিসা ছিলো সিংগেল এন্ট্রি। তবে সম্প্রতি ৩০ শে নভেম্বর থেকে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন ঘোষণা দিয়েছে যে তারা পুনরায় ১ বছর মেয়াদি টুরিস্ট ভিসা চালু করেছে।
১ বছর মেয়াদি টুরিস্ট ভিসাঃ
১ বছর মেয়াদি ইন্দোনেশিয়ান টুরিস্ট ভিসাটির ক্যাটেগরি হলো B212। এখন থেকে এই ভিসা নিয়ে আপনি একবছর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া তে যতোবার খুশি যাওয়া আসা করতে পারবেন। এছাড়া ও ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ১০ বছর মেয়াদি সেকেন্ড হোম ভিসা চালু করেছে।
B212 ভিসা ব্যবহার করার নিয়মঃ
এই ১ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আপনি ইন্দোনেশিয়া তে একটানা ২ মাস থাকতে পারবেন। এই ভিসা টি এক্সটেনশন করার সুযোগ নেই। তারমানে হলো আপনি ইন্দোনেশিয়া তে এই ভিসায় এসে ২ মাসের বেশি থাকতে পারবেন না। ২ মাসের মধ্য আপনাকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আউট হতে হবে।
ইন্দোনেশিয়া থেকে আউট হয়ে আপনি পুনরায় আগের ভিসার কপি টি ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়াতে আসতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
B212 ভিসার রিকুয়ার্মেন্টঃ
১) পাসপোর্টের কাভার পেজের স্ক্যান কপি
২) পাসপোর্টের আইডি পেজের স্ক্যান কপি
৩) ভ্যাক্সিন সার্টিফিকেট এর স্ক্যান/পিডিএফ কপি
৪) পাসপোর্ট সাইজের ফটো/ বা মোবাইলে তোলা স্পষ্ট সেল্ফি
৫) ইন্দোনেশিয়া তে যেকোনো একটি হোটেল বুকিং করে সেই হোটেলের ঠিকানা দিতে হবে।
বিঃদ্রঃ বাংলাদেশী পাসপোর্ট হোল্ডারদের ক্ষেত্রে নরমাল প্রসেসিং এ ভিসা পেতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এক্সপ্রেস প্রসেসিং বা ভি আই পি প্রসেসিং করাটাই বেটার। ইন্দোনেশিয়ান টুরিস্ট ভিসা হলো নন ওয়ার্কিং ক্যাটেগরির। তাই যেকোনো ধরনের টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ইন্দোনেশিয়াতে কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুলেও কেউ ইন্দোনেশিয়া তে অবৈধকাজে লিপ্ত হবেন না।
তাছাড়া বাংলাদেশী বিভিন্ন এজেন্টরা ইন্দোনেশিয়াকে মালেয়শিয়াতে মানব পাচারের রুট হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। যেকারণে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন বাংলাদেশী টুরিস্ট দের বেলায় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে থাকে। ভুলেও কেউ এই পথে পা বাড়াবেন না। মালেয়শিয়াতে বর্তমানে বৈধভাবে যাওয়ার অনেক উপায় আছে। বৈধভাবে বিদেশ যান, তাতে দেশের নাম উজ্জ্বল হবে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি দেশ। বেড়াতে আসতে চাইলে আপনাকে ইন্দোনেশিয়া তে স্বাগতম। উপরের আর্টিকেল পড়ার পরে ও যদি বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের সোসিয়াল মিডিয়া তে।
ফেসবুকঃ এখানে ক্লিক করুন
ইন্সটাগ্রামঃ এখানে ক্লিক করুন
জিমেইলঃ indobanglainfo@gmail.com





