ইন্দোনেশিয়ার স্টিকার ভিসা পাওয়ার নিয়ম ২০২৩
পূর্বে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশী নাগরিকরা ইন্দোনেশিয়া তে যেতে পারতেন ভিসা ছাড়ায়।
ভিসা অন এরাইভাল সুবিধা নিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকেই বাংলাদেশীরা ভ্রমণ করতে যেতে পারতেন ইন্দোনেশিয়া তে।
কিন্ত করোনা মহামারীর পর থেকে ইন্দোনেশিয়া তাদের ভিসা অন এরাইভাল দেশ গুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশের নাম উঠিয়ে নেয়। তারপর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চালু করা হয় ই-ভিসা। ২০২১ সাল থেকে এভাবেই চলে আসছিলো একটানা ২০২২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত।
২০২২ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে ইন্দোনেশিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে বাংলাদেশীদের জন্য সব ধরনের ভিসা অন হোল্ড করে ফেলে। তারপর থেকে শুরু হয় নানা নাটকীয়তা। অবশেষে বাংলাদেশীদের জন্য শুধুমাত্র স্টিকার ভিসা চালু করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার স্টিকার ভিসার রিকুয়ার্মেন্ট ২০২৩
বর্তমানের নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশী নাগরিকগন ইন্দোনেশিয়া তে ভ্রমণের জন্য আসতে চাইলে, যে- যে দেশে অবস্থান করছেন সেই দেশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসি থেকে স্টিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্টিকার ভিসা নিতে চান, তাহলে বাংলাদেশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসি থেকে স্টিকার ভিসা নিতে হবে।
আর যদি প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি যে দেশে থাকেন সেই দেশে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসি থেকে স্টিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
স্টিকার ভিসার জন্য যা যা ডকুমেন্টস প্রয়োজন:
1️⃣) নিজের নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে এবং মিনিমাম ২ লক্ষ টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে।
আপনি যদি প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে যেদেশে আছেন সেই দেশের যেকোনো ব্যাংকে একাউন্ট থাকতে হবে আর ২০০০ ডলার সমপরিমাণ মুদ্রা আপনার স্থানীয় ব্যাংকের একাউন্টে দেখাতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর পাশাপাশি ব্যাংক সলভেন্সি ও নিতে হবে।
2️⃣) ইন্দোনেশিয়া থেকে স্পনসর লেটার নিতে হবে( শুধুমাত্র যারা বিয়ের উদ্দেশ্যে আসবে তাদের ক্ষেত্রে স্পনসর লেটার থাকলে ভালো হয়) আর যাদের কেউ পরিচিত নেই ইন্দোনেশিয়া তে, তাদের ক্ষেত্রে পেইড হোটেল বুকিং এর কনফার্মেশন দেখালেই হবে।
3️⃣) রিসার্ভ টিকিট দেখাতে হবে ( ডামী টিকিট)
4️⃣) রিসার্ভ হোটেল বুকিং দেখাতে হবে ( স্পনসর লেটার না থাকলে পেইড হোটেল বুকিং দেখাতে হবে)
5️⃣) আপনি যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন তাহলে অফিস থেকে NOC লেটার নিতে হবে আর ব্যবসায়ী হলে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এবং টিন সার্টিফিকেট দিতে হবে।
আর যারা প্রবাসী, আপনার যে কোম্পানির আওতায় আপনার ভিসা, সেই কোম্পানি থেকে NOC/ছুটির জন্য কোম্পানি থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।
6️⃣) সদ্য তোলা ফটো ( ৩*৪ সাইজ, যেকোনো ব্যাকগ্রাউন্ড এর)
7️⃣) এম্বাসি থেকে এপোয়েন্টমেন্ট ডেট নিতে হবে
8️⃣) ভিসা ফর্ম ফিলাপ
9️⃣) ট্রাভেল ইন্সুইরেন্স

ভিসার খরচ:
উপরে উল্লেখিত সব ডকুমেন্টস যদি দেখাতে পারেন তাহলে নিজেই গিয়ে এম্বাসিতে জমা করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, সরকারি ভিসা ফি ১০,৫০০ টাকা।
ইন্দোনেশিয়ান স্টিকার ভিসার ক্ষেত্রে আমাদের সার্ভিস:
ইন্দোবাংলার পক্ষ থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্টিকার ভিসা পেতে যাবতীয় ডকুমেন্টস এর ব্যাপারে হেল্প করা হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।
✅আমরা আপনার হয়ে এপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে দেবো
✅ইনভাইটেশন লেটার না থাকলে সেটার ব্যবস্থা করে দেবো অথবা পেইড হোটেল বুকিং দেখিয়ে দেবো
✅রিসার্ভ টিকিট করে দেবো ( ডামী টিকিট)
✅হোটেল রিসার্ভেশন করে দেবো বা পেইড হোটেল বুকিং দেখিয়ে দেবো
✅ ট্রাভেল ইন্সুইরেন্স করে দেবো
✅ ভিসা ফর্ম ফিলাপ করতে সহযোগীতা করবো
সেক্ষেত্রে আমাদের সার্ভিস চার্জ মাত্র ১৩,০০০ টাকা ( নন রিফান্ডএবল)
সব ডকুমেন্টস জমা করার দিন, ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসি থেকে ছোট পরিসরে আপনার ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। ইন্টারভিউ তে আপনাকে বেসিক কিছু প্রশ্ন করা হবে।
ইন্টারভিউ তে যেসব প্রশ্ন করতে পারে:
*আপনি ইন্দোনেশিয়া কোথায় বেড়াবেন?
*কতোদিন থাকবেন?
*স্পনসরের সাথে আপনার সম্পর্ক কি? ( ভুলেও বলবেন না যে গার্ল ফ্রেন্ড বা প্রেমিকা, বলনেন বন্ধু হই)
*স্পনসরের সাথে পরিচয় কিভাবে? ( ভুলেও বলবেন না যে অনলাইনে পরিচয়। বলবেন স্পনসরের সাথে আপনার সরাসরি দেখা হয়েছিলো। স্পনসর বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলো বা আপনি প্রবাসী হলে বলবেন যে আমি যেদেশে কাজ করি সেখানে সে বেড়াতে এসেছিলো, তখন তার সাথে পরিচয়। তাই এখন সে আপনাকে ইন্দোনেশিয়াতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ইনভাইট করেছে)
*বর্তমানে আপনি কি কাজ করেন?
*পূর্বে আর কোন কোন দেশে গিয়েছিলেন?
*ইন্দোনেশিয়া তে আগে কখনো গিয়েছিলেন কিনা?
*আপনার ভ্রমণের খরচ কে বহন করছে?
*হোটেল বুকিং কতোদিনের দেখিয়েছেন?
*থাকবেন তো ১০ দিন তাহলে হোটেল বুকিং ৩ দিনের কেনো? ( আপনি বলবেন যে আপনি জায়গা চেঞ্জ করে করে থাকবেন সেজন্য আপাতত ৩ দিনের বুকিং দিয়েছেন। পরে দেখেশুনে যে এরিয়ায় ঘুরবেন সেই এরিয়ায় হোটেল বুকিং করে নেবেন)
এগুলো ইন্টারভিউ এর নমুনা মাত্র। তবে এইরকমই প্রশ্ন করে থাকবে। যদি ভিন্ন প্রশ্ন করে তাহলে আপনার কমন সেন্স ব্যবহার করে বুদ্ধিমত্তার সাথে উত্তর দেবেন।
অবশেষে সব ঠিক থাকলে আপনি দুই মাস মেয়াদি B211A ক্যাটেগরিতে স্টিকার ভিসা পাবেন৷ এই ভিসা নিয়ে আপনি ইন্দোনেশিয়াতে ২ মাস অবস্থান করতে পারবেন। আর একবার এক্সটেনশন ও করতে পারবেন।
ইন্দোনেশিয়া তে টুরিস্ট ভিসায় এসে কাজ করা সম্পুর্ন আইনের বিরুদ্ধে। কেউ যদি টুরিস্ট ভিসায় এসে কোনো ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়েন তাহলে আপনাকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ডিপোর্ট করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আইন মানুন, নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করুন। ইন্দোনেশিয়ার স্টিকার ভিসার জন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতায় ইন্দোবাংলার ফেসবুক, বা ইন্সটাগ্রামে সরাসরি মেসেজ দিতে পারেন৷
ফেসবুক: এই লেখার উপরে ক্লিক করুন
ইন্সটাগ্রাম: এই লেখার উপরে ক্লিক করুন
অথবা ইমেইল করুন: indobanglainfo@gmail.com





6 Responses
I booked my ticket on 24 the March is that possible to get visa before this day
ভিসা পেতে প্রায় ৫ কার্যদিবস লাগে। আপনি যদি মিনিমাম ৫/৭ দিন আগে ভিসার জন্য আবেদন করে থাকেন তাহলে ভিসা আগেই পেয়ে যেতে পারেন।
How many days it will take to get visa.
প্রায় ৫ কার্যদিবস
ইন্দোনেশিয়ান স্টিকার ভিসার,212 ভিসায়, সিংগাপুরে থেকে কি ভাবে করব,
সাইটে আমাদের ফেসবুক পেজ লিংক থেকে ফেসবুকে মেসেজ দিতে পারেন।